মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৪:১৭
আর্জেন্টিনায় হুসাইনি আন্দোলন সম্পর্কে জানার জ্ঞানপিপাসা অত্যন্ত প্রবল

মহান ‘দায়েরাতুল মা‘আরিফ আল-হুসাইনিয়া’ (হুসাইনি বিশ্বকোষ)-এর সংকলক তাঁর সাম্প্রতিক লাতিন আমেরিকা সফরের সময় আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজের সক্রিয় উপস্থিতি এবং আহলে বাইত (আ.)-এর মাযহাব ও হুসাইনি আন্দোলন সম্পর্কে জানার ব্যাপক আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘দায়েরাতুল মা‘আরিফ আল-হুসাইনিয়া’ (হুসাইনি বিশ্বকোষ)-এর সংকলক এবং লন্ডনের হুসাইনি স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক আয়াতুল্লাহ শায়খ মুহাম্মাদ সাদিক মুহাম্মাদ আল-কারবাসি বলেন, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে তাঁর সাম্প্রতিক সফর ওই অঞ্চলে ইসলামের বৈচিত্র্যময় উপস্থিতি এবং আহলে বাইত (আ.)-এর মাযহাব ও হুসাইনি আন্দোলন সম্পর্কে জানার প্রতি ব্যাপক আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।

তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, তাদের মধ্যে জ্ঞানার্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ও জ্ঞানভিত্তিক উত্তর পাওয়ার প্রবল আগ্রহ রয়েছে।

আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজে আহলে বাইত (আ.)-এর মাযহাব সম্পর্কে জানার জ্ঞানপিপাসা

শায়খ আল-কারবাসি বলেন, তাঁর এই সফরে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের বেশ কয়েকটি ইসলামী কেন্দ্র ও সংগঠন পরিদর্শন এবং শিয়া ও মুসলিম সমাজের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তিনি বলেন, সেখানে শিয়া মুসলিম সমাজের উপস্থিতি রয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, তাদের বিভিন্ন সংগঠন পরিদর্শন করেছি এবং লক্ষ্য করেছি যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয় এবং বিশেষ করে হুসাইনি আন্দোলনের প্রতি তাদের অত্যন্ত গভীর আগ্রহ রয়েছে।

তিনি রাজধানীতে একটি ইসলামী কবরস্থানের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে সুন্নি, শিয়া ও আলাভি-তিন সম্প্রদায়ের মুসলমানদের দাফন করা হয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কবরস্থানটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব শিয়াদের হাতে রয়েছে। সেখানে সিরীয় বংশোদ্ভূত এক সাবেক রাষ্ট্রপতির কবরও রয়েছে, যিনি তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী সেখানে দাফন হয়েছেন।

শায়খ আল-কারবাসি বলেন, তাঁকে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আকৃষ্ট করেছে তা হলো প্রশ্নগুলোর ব্যাপকতা ও বৈচিত্র্য। তিনি বলেন, দিন-রাত আমরা হুসাইনি আন্দোলন সম্পর্কে জানার এক গভীর জ্ঞানপিপাসা দেখতে পাচ্ছি। বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন রয়েছে, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

তিনি আরও বলেন, বুয়েনস আইরেসে তিনজন আলেম রয়েছেন-শায়খ আবদুল কারিম কাজেম, শায়খ আব্দুল্লাহ এবং শায়খ মুহসিন। আর শায়খ ফয়সাল ‘সান মিগেল দে তুকুমান’ শহরে অবস্থান করছেন। তিনি মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

আয়াতুল্লাহ আল-কারবাসি বলেন, দায়েরাতুল মা‘আরিফ আল-হুসাইনিয়া’ (হুসাইনি বিশ্বকোষ) মুসলিম সমাজের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বকোষটির বিপুলসংখ্যক গ্রন্থ ও খণ্ড দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, তাদের প্রশ্নগুলো শুধু হুসাইনি আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ইসলামী বিষয়, আকিদা, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন শাস্ত্র সম্পর্কিত প্রশ্নও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তিনি বলেন, তাদের বিস্মিত করেছে এই বিশাল বৈচিত্র্যের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সক্ষমতা। এটি আলেম ও ইসলামী কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে বৈজ্ঞানিক ও জ্ঞানভিত্তিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপকতাকেই প্রতিফলিত করে।

শায়খ আল-কারবাসি বলেন, মুসলিম সমাজের মধ্যে সিরিয়া ও লেবানন থেকে আগত পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। কিছু পরিবারের অভিবাসনের শিকড় উসমানি সাম্রাজ্যের সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে ওই অঞ্চলে একটি সুদৃঢ় ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী ও সাংস্কৃতিক উপস্থিতি গড়ে উঠেছে।

ইসলামী বিপ্লবের প্রতি সমর্থন ঘোষণা ও বিজয়ের জন্য দোয়া

তিনি এ অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনার কথাও উল্লেখ করে বলেন, এই সমাজের কিছু সদস্য ফিলিস্তিনি প্রতীক বহন করেন এবং ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেন। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যারা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিপ্লবের প্রতি নিজেদের সমর্থন ঘোষণা করেছেন এবং এর বিজয়ের জন্য দোয়া করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারা জানেন যে গণমাধ্যমগুলো অনেক সময় তথ্য বিকৃত করে এবং প্রকৃত সত্য যথাযথভাবে তুলে ধরে না। তাই তাদের মধ্যে মূল উৎস থেকে ঘটনাবলি ও বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার এবং বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় আলোচনা শোনার প্রবল আগ্রহ রয়েছে।

পরবর্তী সফর হবে ব্রাজিলে

শায়খ আল-কারবাসি বলেন, আগামী দিনগুলোতেও তাঁর সফর অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, পরবর্তী সফরে ব্রাজিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং সেখানে তাঁরা টানা দুই সপ্তাহ অবস্থান করবেন।

এই কর্মসূচির মধ্যে থাকবে বিভিন্ন মুসলিম সমাজ ও ইসলামী কেন্দ্র পরিদর্শন, তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে মুসলমান ও আহলে বাইত (আ.)-এর অনুসারীদের জীবনযাপনের বাস্তবতা কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা।

এর আগে শায়খ আল-কারবাসি ইসলামী কেন্দ্র ও হুসাইনিয়াগুলো পরিদর্শন, মুসলিম সমাজ ও আহলে বাইত (আ.)-এর অনুসারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, জ্ঞানভিত্তিক যোগাযোগ জোরদার এবং ‘দায়েরাতুল মা‘আরিফ আল-হুসাইনিয়া’-এই বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে বিশেষ সফরে এই অঞ্চলে গিয়েছিলেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha